স্বামীকে বাঁচাতে মামলার নথি চুরি করলেন স্ত্রী

খবরের ডাক ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৪, ২০২৬
স্বামীকে বাঁচাতে মামলার নথি চুরি করলেন স্ত্রী

স্বামীর বিরুদ্ধে চলা অস্ত্র মামলার বিচার বন্ধ করতে আদালত থেকে মামলার নথি চুরির অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেফতার জামিলা আক্তার ওরফে অর্পা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদালত পাড়ার এক কম্পিউটার অপারেটর আহসান হাবীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ড চলাকালে অর্পা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই দেবাশীষ হাওলাদার। একই সঙ্গে আহসান হাবীবকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর অর্পার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন।

অন্যদিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আহসান হাবীবের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট ফয়েজ উল্লাহ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে আইনজীবী বলেন, ‘আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিরপরাধ। এজাহারে তার নাম নেই। অহেতুক হয়রানি করার জন্য তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ পরিস্থিতির শিকার। মামলার কথিত ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।’
পরে আদালত আহসান হাবীবের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি নিজেকে আইনজীবীর মহুরি পরিচয় দেন। তিনি খিলগাঁও থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলার নথি দেখতে চান।

আদালতের উমেদার নাজমুল হাসান ওই ব্যক্তিকে নথি দেখতে দেন। পরে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিচারক নাজমুল হাসানকে পাশের খাস কামরায় ডেকে পাঠান। তিনি খাস কামরায় যাওয়ার কয়েক মিনিট পর এজলাসে ফিরে এসে ওই ব্যক্তিকে আর দেখতে পাননি। তখন তিনি দেখতে পান, মামলার নথিটিও নেই। এ ঘটনায় ওই দিনই সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী খায়রুল আলম কোতয়ালি থানায় নথি চুরির অভিযোগে মামলা করেন।

গত ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্যামপুর থানার একতা হাউজিং এলাকা থেকে আনোয়ারুল হক ওরফে রাসেল ওরফে মুরগি রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুগদা থানার মুড়িওয়ালী গলিতে অর্পার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অর্পাকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি চুরি যাওয়া মামলার নথিও উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অর্পা তানভীর আহমেদ তনয় ওরফে রাব্বীর স্ত্রী। রাব্বী খিলগাঁও থানার ওই অস্ত্র মামলার আসামি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বামীর বিরুদ্ধে চলা অস্ত্র মামলার বিচার বন্ধ করার উদ্দেশ্যে মুরগি রাসেলের সহায়তা ও যোগসাজশে অর্পা আদালত থেকে মামলার নথি চুরি করেন।

রিমান্ডে বেরিয়ে আসে হাবীবের নাম
গত ২১ আগস্ট অর্পা ও মুরগি রাসেলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড চলাকালে অর্পা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে জানান। অন্যদিকে মুরগি রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, রিমান্ডে মুরগি রাসেল আদালত পাড়ার একটি কম্পিউটারের দোকানের কথা উল্লেখ করেন। পরে রোববার আদালতপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ওই দোকান থেকে কম্পিউটার অপারেটর আহসান হাবীবকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তার সঙ্গে নথি চুরির ঘটনায় কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।