তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা হত্যাকাণ্ডের সঠিক ক্লু বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ৬ মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এই সময়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ খুনের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি শিক্ষিত-ভদ্র পরিবারের চার জনকে হত্যা করা হলো। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে গোয়েন্দা সংস্থার পেছনে। বিগত দিনে একজন নিরীহ, মামলা নেই, কারো সঙ্গে শত্রুতা নেই এমন মানুষকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তুলে এনে ক্রস ফায়ারে দিয়েছে, অথচ এমন হত্যাকাণ্ড ঘটলো আজও এর সঠিক ক্লু বের করা গেল না। গোয়েন্দা সংস্থা হত্যাকাণ্ডের সঠিক ক্লু বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যমের কারো কথায় মিল নেই।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ধোঁয়াশা এখন কাটছে না। এটি আমাদের উদ্বেগের বিষয়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়। দ্বিতীয়ত, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের দিয়ে প্রকৃত তথ্য জাতিকে জানাবার কিছু উদ্ঘাটন করতে পেরেছে বলে গণমাধ্যম বলতে পারেনি। আমি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা, সহানুভূতি ও শোক জ্ঞাপন করছি। অবিলম্বে প্রশাসনকে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার ৬ মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এই সময়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ খুনের ঘটনা ঘটেছে। জনদুর্ভোগের শেষ নেই। উত্তরবঙ্গে সারের সংকট চলছে, বেশি দাম দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না। লোডশেডিং চরমে উঠেছে, গ্যাস-জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। সব কিছুর দায় সরকারের। সরকারের উচিত জনদুর্ভোগের দিকে নজর দেওয়া এবং জনজীবনকে স্বস্তি ও স্বাভাবিক করে দেওয়া।
দলীয়করণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্বে যারা এসেছেন তারা দলীয়করণ থেকে দূরে থাকতে পারেন নাই। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্ত-শাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকা নেতাদের পদায়ন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও দেশের ৮টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে বিএনপি দলীয় লোকজকে পদায়ন করেছে। আমরা এমন কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। নির্বাচন দেন, এতে দলীয় লোকজন নির্বাচিত হয়ে আসলে আসবে। স্লোগান দেন সবার আগে বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্ত বলে সবার আগে বিএনপি।
দলীয় এমপিদের বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকে। আমাকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১৩০০ ভোটে হারানো হয়েছে। বিএনপির পরাজিত নেতাদের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। প্রশাসন চালাতে গিয়ে তারা এমন শাসন চালাচ্ছে, সেই এলাকার নির্বাচিত এমপি দায়িত্ব পালনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপিরা কোনো নির্দিষ্ট আসনের এমপি নন। সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী জনগণের দেখাশোনা, উন্নয়ন, বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব নির্বাচিত এমপির। বর্তমান সরকার অতীতের সব রেওয়াজ ভেঙে দলীয় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যকে বিভিন্ন আসন তদারকির জন্য ভাগ করে দিয়েছে। এটি কি বেআইনি কাজ নয়?
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সামসুল আলমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।