অতিরিক্ত খেলাধুলা, দৌড়ানো বা দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রমের পর মাসল ক্র্যাম্প হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত ব্যায়াম করে না, তারা হঠাৎ বেশি খেলাধুলা করলে এ সমস্যা হতে পারে। জ্বর, ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও বিভিন্ন খনিজ কমে গেলেও হতে পারে।
দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে থাকা, পেশির অতিরিক্ত ব্যবহার বা কিছু ক্ষেত্রে পেশিতে পর্যাপ্ত স্ট্রেচিং না থাকাও ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু ওষুধ, হজমে সমস্যা (মেটাবলিক ডিজঅর্ডার), ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণেও বারবার মাসল ক্র্যাম্প হতে পারে।
শিশুকে বসিয়ে বা শুইয়ে আক্রান্ত পেশিকে ধীরে ধীরে স্ট্রেচ করতে পারেন। পেশিতে হালকা ম্যাসাজ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত জোরে চাপ দেওয়া উচিত নয়। শিশু খেলাধুলা বা অতিরিক্ত ঘামের পর এমন সমস্যায় পড়লে পর্যাপ্ত পানি ও বয়স উপযোগী তরল দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়রিয়া বা বমি থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওরাল স্যালাইন ব্যবহার করা যেতে পারে। পেশির টান চলে যাওয়ার পরও যদি ব্যথা থাকে, শিশুকে কিছু সময় বিশ্রাম দেওয়া ভালো। নিজে থেকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট শুরু করার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসক প্রয়োজনে এসব পরীক্ষা বা সাপ্লিমেন্টের সিদ্ধান্ত নেবেন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
পায়ে বারবার বা দীর্ঘ সময় ধরে ক্র্যাম্প হলে; একই পায়ে বা একই পেশিতে বারবার টান ধরলে; পায়ে দুর্বলতা, অবশভাব বা ঝিনঝিনে অনুভূতি থাকলে; পায়ে ফোলা, লালচে ভাব বা তীব্র ব্যথা থাকলে; হাঁটতে বা দৌড়াতে সমস্যা হলে; জ্বর, বমি বা ডায়রিয়ার সঙ্গে বারবার পেশিতে টান ধরলে; শিশুর প্রস্রাবের পরিমাণ কম বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে এবং শিশু অস্বাভাবিক দুর্বল হয়ে পড়লে বা শরীরের অন্য পেশিতেও বারবার খিঁচুনি বা টান ধরলে।