স্টাফ রিপোর্টার: পরিবারের সদস্যরা গভীর ঘুমে থাকা অবস্থায় ২৩ মে ২০২৪ রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের একটি আবাসিক বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে পরিবারটি তাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
ফারহানা রহমান এর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য স্থানীয় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পরই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ও বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। তাদের প্রতিবেশী মো. আব্দুল মতিন প্রথম আগুন দেখতে পান বলে জানা গেছে। তিনি বাড়ির আশপাশে কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখতে পান এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন যে, তিনি বাড়ির আশপাশে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখেছেন এবং দাবি করেন যে, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মী মাসুম, নাদিম, আনোয়ার, মঈনুল হিসেবে চিনতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে মাসুম ও নাদিম নেতা বলে তিনি উল্লেখ করেন। মতিনের চিৎকার শুনে আশপাশের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। তাদের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে আগুন বাড়ির একটি অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাড়ি ছেড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, তারা হামলার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের শনাক্ত করেছেন, বিশেষ করে ছাত্রলীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে স্থানীয় থানায় গেলে পুলিশ তাদের অভিযোগটি গ্রহণ করেনি। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাটি তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলা যাচ্ছে না।
পরিবারের দাবি, ঘটনার গুরুত্ব সত্ত্বেও তারা যেসব রাজনৈতিক কর্মীকে হামলার সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত করেছেন, তাদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ পাননি।
ঘটনাটি পরিবারের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হামলার অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।