নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাস নীরব থাকার পর দক্ষিণ সুরমায় কথিত ‘বদরুল বাহিনী’ আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
বদরুল ইসলাম দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০২৪ সালের ৮ মে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি টেলিফোন প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন ছিলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম আহমদ।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, একই দলের নেতা মোহাম্মদ শামীম আহমদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বদরুল ইসলামের সঙ্গে দলের একটি অংশের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বদরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ‘বদরুল বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা আদায় এবং বিরোধীদের ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় কথিত বদরুল বাহিনীর সদস্যরা ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে। তাঁদের দাবি, এই গোষ্ঠীর প্রভাব কাজে লাগিয়েই বদরুল ইসলাম নির্বাচনে সুবিধা পেয়েছিলেন। ত
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম দুই থেকে তিন মাস বদরুল ইসলাম ও তাঁর অনুসারীদের প্রকাশ্য তৎপরতা কমে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং আগে দখল করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত মালিকেরা ফিরে পাবেন—এমন আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই গোষ্ঠীটি আবার সক্রিয় হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দক্ষিণ সুরমার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এ টি এম ফয়েজ, আব্দুস সালাম ও রাসেল মিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয়ে কথিত বদরুল বাহিনী পুনরায় তৎপরতা শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করে বদরুল ইসলাম এলাকায় তাঁর আগের প্রভাব বজায় রেখেছেন।
কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বদরুল বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকান বেআইনিভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছিল। সরকার পরিবর্তনের পরও ওই দোকানগুলো প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক দখল করা একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে বদরুল ইসলামের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বদরুল ইসলাম নিয়মিত সেখানে এসে বসেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ওই কার্যালয়ে যান বলেও অভিযোগকারীরা জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও বাজারের নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রকাশ্যে অভিযোগ করলে হামলা, মিথ্যা মামলা কিংবা ব্যবসা হারানোর আশঙ্কায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কথা বলতে সাহস পান না।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বদরুল ইসলাম, এ টি এম ফয়েজ, আব্দুস সালাম ও রাসেল মিয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বেআইনিভাবে দখল করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।