ঘুসের সামাজিক খতিয়ান অনিয়মের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি হোক

খবরের ডাক ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ঘুসের সামাজিক খতিয়ান অনিয়মের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি হোক

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুস, হয়রানি আর প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হওয়া এ দেশের মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। কিন্তু এই দুর্ভোগের চিত্র কেবল ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে যখন তা একটি সুসংগঠিত পরিসংখ্যানে রূপ নেয়, তখন তা পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর এক বিরাট প্রশ্নের সৃষ্টি করে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের এক কিশোরের উদ্যোগে নির্মিত ‘ঘুস.সাইট’ নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক মাসে জমে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে উঠে এসেছে ৫৫২ কোটি টাকার ঘুস দাবির চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভূমি ও পাসপোর্ট অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক দপ্তরগুলো এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। বলা বাহুল্য, ব্যক্তিগত হয়রানির অভিজ্ঞতা থেকে শুরু হওয়া দুই তরুণের উদ্যোগ আজ দেশের সামগ্রিক দুর্নীতির এক অনানুষ্ঠানিক দলিলে পরিণত হয়েছে।

এই উদ্যোগটি যে বার্তা দিচ্ছে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট-আজকের তরুণ প্রজন্ম কেবল অন্যায়কে নীরবে সহ্য করতে রাজি নয়, তারা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো সবার সামনে উন্মোচন করতে চায়। ওয়েবসাইটের উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, এটি কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয় কিংবা এখানে জমা পড়া অভিযোগগুলো আইনগতভাবে প্রমাণিত সত্য নয়। তারা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে চিহ্নিত না করে কেবল সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘুসের চিত্রটি তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে আইনি প্রমাণের অনুপস্থিতি থাকলেও এই বৃহৎ পরিমাণের অভিযোগের তথ্য নাগরিক জীবনের চরম বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করে। দেশের প্রতিটি কোণে সাধারণ মানুষকে কীভাবে সেবা পেতে গিয়ে ঘুসের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, এই উন্মোচন তারই এক বাস্তব দলিল।

আমরা মনে করি, এ ধরনের নাগরিক উদ্যোগকে কেবল বিতর্ক বা সমালোচনার চোখে না দেখে সরকারের উচিত একে একটি ইতিবাচক সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করা। উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই প্রাথমিক দায়িত্ব, কারণ কোনো নাগরিক যদি অনিয়মের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েন, তবে তা বাকস্বাধীনতা ও সুশাসনের পরিপন্থি। সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত এই প্ল্যাটফর্মের উপাত্তগুলোকে আগাম সতর্কতা হিসাবে গ্রহণ করে ভূমি, পাসপোর্ট ও শিক্ষা দপ্তরের মতো জায়গাগুলোতে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা। প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে যদি আরও স্বচ্ছ ও সশরীরে উপস্থিতিমুক্ত করা যায়, তাহলে ঘুসের এই ব্যাধি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।