শরীর শুধু সুস্থ রাখতে নয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে খাবারের ভূমিকা রয়েছে। দিনের ব্যস্ততায় মনোযোগ ধরে রাখা, তথ্য মনে রাখা বা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া-এসবের পেছনেও কাজ করে মস্তিষ্ক। তাই মস্তিষ্ককে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে খাদ্যতালকায় নজর দেওয়া জরুরি।
এমন কোনো একক খাবার নেই, যা খেলেই মুহূর্তের মধ্যে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বেড়ে যাবে। তবে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সুষম খাবার নিয়মিত খেলে দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ভারতীয় চিকিৎসক ডা. সৌরভ শেঠির পরামর্শ অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর সহায়ক হবে এমন পাঁচটি খাবার হলো-
আখরোট
মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাবারের তালিকায় আখরোট বেশ পরিচিত। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। ডা. সৌরভ শেঠির মতে, এসব উপাদান মস্তিষ্কের নিউরনকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে সুরক্ষায় ভূমিরা রাখতে পারে। ফলে স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকারিতা ধরে রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে।
ডিম
সকালের নাশতায় থাকা একটি সাধারণ ডিমও মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে। ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি রয়েছে কোলিন। ডা. শেঠির মতে, অ্যাসিটাইলকোলন নামের গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে কোলিন প্রয়োজন হয়। এটি স্মৃতিশক্তি, শেখা প্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোর যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত।
তৈলাক্ত মাছ
সার্ডিন, ম্যাকারেলসহ বিভিন্ন তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। এগুলোতে থাকা ডিএইচএ ও পিএইচএ মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডা. শেঠির মতে, ডিএইচএ মস্তিষ্কের কোষঝিল্লির অন্যতম প্রধান উপাদান এবং সুস্থ ও কার্যকর নিউরনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
কুমড়োর বীজ
ছোট এই বীজেও রয়েছে মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ পুষ্টি উপাদান। কুমড়োর বীজে ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, কপার ও আয়রন থাকে। জিঙ্ক স্নায়ু সংকেতে ভূমিকা রাখে, আর ম্যাগনেসিয়াম মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা আয়রনও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়।
বেরি জাতীয় ফল
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা অন্যান্য বেরি জাতীয় ফলে রয়েছে পলিফেনল ও অ্যান্থোসায়ানিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো মস্তিষ্কে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি বেরিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সংযোগ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রক্রিয়াও ধীর করতে সহায়ক হতে পারে।
খাবারের পাশাপাশি দরকার সুষম অভ্যাস
মস্তিষ্ক ভালো রাখতে শুধু একটি বা দুটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিকভাবে সুষম অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তাও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।